ডিগ্রি ২য় বর্ষ(২০১৯-২০) নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৭/০২/২০২৩ থেকে ৭/০৩/২০২৩ পর্যন্ত। *পরীক্ষা হবে কেন্দ্র খালি থাকলে এপ্রিলের শুরুতে বা ঈদের পরপরই। কলেজসমূহে ফরম পূরণ ফি ১৫০০ এর মধ্যে।

অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব সংক্ষেপে আলোচনা কর।

অথবা, অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব কি?
অথবা, অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব ব্যাখ্যা কর।
অথবা, অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
অথবা, অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব বলতে কি বুঝ?
অথবা, অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব সম্পর্কে যা জানো লেখ।
অথবা, অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের ধারণাটি তুলে ধর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
মধ্যযুগের বাঙালির ধর্ম ও মনন সাধনার ক্ষেত্রে যে মতধারার প্রভাব ছিল সর্বব্যাপ্ত তা বৈষ্ণববাদ নামেই আমাদের নিকট পরিচিত। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব বাংলায় গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের প্রবর্তক ও প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রবর্তিত এ মতধারা প্রেমধর্ম বা প্রেমদর্শন নামেই সমধিক খ্যাত। রাধাকৃষ্ণের পরকীয়া প্রেমের প্রতীকের অন্তরালেই বৈষ্ণব দর্শনের যাবতীয় তত্ত্ব ব্যাখ্যাত। বৈষ্ণব দর্শনে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্বন্ধের তত্ত্বটিও ব্যাখ্যাত হয়েছে রাধাকৃষ্ণের প্রেমভক্তির প্রতীকের অন্তরালে।
অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব : রাধাকৃষ্ণের প্রেমই বৈষ্ণব ধর্ম ও দর্শনের মূল নির্যাস। কৃষ্ণ হলেন স্রষ্টা আর রাধা হলেন সৃষ্টির প্রতীক। রাধা ও কৃষ্ণ নিবিড় প্রেমের বাঁধনে আবদ্ধ। কিন্তু স্রষ্টা ও সৃষ্টি তথা রাধা ও কৃষ্ণের এ যে সম্বন্ধ তা কি ভেন বিভেদের সম্বন্ধ, না অভেদ অভিন্নতার সম্বন্ধ? এ প্রশ্নে বৈষ্ণব দর্শনে যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তাই অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব নামে পরিচিত। প্রকৃতপক্ষে শ্রীচৈতন্যদেবের দার্শনিক মতবাদই অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব নামে খ্যাত। শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত এ তত্ত্বের একটি চিত্তাকর্ষক বর্ণনা দেন চৈতন্য দর্শনের প্রখ্যাত ভাষ্যকার শ্রীজীব গোস্বামী তাঁর ‘ষট সাদর্ভ’ নামক গ্রন্থে। তাঁর ব্যাখ্যানুসারে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে যে সম্বন্ধ তা নিছক ভেদের সম্বন্ধ নয়, আবার একেবারে অভেদের সম্বন্ধ নয়। কারণ স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্বন্ধের মধ্যে ভেদ ও অভেদ দুই যুগপৎ বিদ্যমান। যেমন আগুন ও আগুনের দাহ্য শক্তি পৃথক নয়, একসঙ্গে বিদ্যমান। আবার আগুনের তাপকে বাইরে থেকেও অনুভব করা যায়। এরকম যা অনস্বীকার্য অথচ হেতু নির্ণয় করা সম্ভব নয় তাকেই বলা হয় অচিন্ত্য জ্ঞানগোচর বস্তু।বৈষ্ণবীয় মতে, রাধা ও কৃষ্ণের সম্বন্ধ ঠিক অনুরূপ। একে এক দৃষ্টিকোণ থেকে ভেদের এবং অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে অভেদের সম্বন্ধ বলে প্রতীয়মান হয়। এ সম্বন্ধ ভেদের এজন্য যে, এখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টি উভয়েই সত্য, উভয়েই বাস্তব। সন্তানকে বাদ দিয়ে মায়ের যেমন কোনো অর্থ হয় না, তেমনি সৃষ্টি ব্যতিরেকে স্রষ্টারও কোনো মানে হয় না। ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেই এ দ্বৈতবাদই দেখা দেয় অদ্বৈতবাদরূপে। কারণ বৈষ্ণব মতে সৃষ্টি ও স্রষ্টা, রাধা ও কৃষ্ণ বিভিন্ন হয়েও অভিন্ন, দুই হয়েও একাত্ম। তাইতো বৈষ্ণব বলে,
“সদ্যপি রাধাকৃষ্ণ সর্বদা অভিন্ন
তথাপি লীলার লাগি যুগপদ্ধিভিন্ন।”
অতএব দেখা যাচ্ছে বৈষ্ণবদর্শন দ্বৈতবাদী হয়েও অদ্বৈতবাদী। তবে এ অদ্বৈতবাদ শঙ্করের অদ্বৈতবাদ নয়। কারণ যা শঙ্করাচার্যের বৈষ্ণব মতে, ব্রহ্ম সত্য, কিন্তু জগৎ মিথ্যা বা মায়া নয়। আর এ ব্যাখ্যার মাধ্যমেই বৈষ্ণবরা বেদান্ত ভাষ্য, অদ্বৈতবাদ বা মায়াবাদ নামে বিখ্যাত তাকে খণ্ডন করেন। এ প্রসঙ্গে শ্রীচৈতন্য মনে করতেন, শঙ্কর ব্রহ্ম সূত্রের যথার্থ ব্যাখ্যা করেন নাই। ব্রহ্ম নির্বিশেষ নয়। জগৎ এবং জীবন সত্য। শঙ্কর ব্রহ্মসূত্রের মুখ্য অর্থ পরিত্যাগ করে গৌণ অর্থ বা
লক্ষার্থের উপর জোর দিয়েছেন। বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর গুণসম্পন্ন পরমতত্ত্ব। জীব ও জগৎ তার গুণের প্রকাশ,ঐশ্বর্যের প্রকাশ। অর্থাৎ জীব ও জগতের মধ্য দিয়েই তিনি পূর্ণরূপে তাঁর গুণের প্রকাশ করেন। কৃষ্ণই পরম ব্রহ্ম এবং তাঁর শক্তি মায়া শক্তিরূপে বিশ্বজগৎকে আচ্ছাদন করে রাখে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন তথা শ্রীচৈতন্যের দর্শনের মূল নির্যাস। কেননা এ তত্ত্বের মধ্য নিয়েই ব্যাখ্যাত হয়েছে স্রষ্টা ও সৃষ্টি তথা পরম ব্রহ্ম কৃষ্ণের ও সৃষ্ট জগতের সম্বন্ধ। যে সম্বন্ধ ভেদের নয়, আবার অভেদেরও নয়, বরং ভেদ অভেদ দুইয়েরই।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!